বাংলাদেশে অনেকেই নবজাতকের যত্ন নিয়ে নানা ধ্যানধারণা ও কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন। জন্মের পর শিশুর মাথার চুল ফেলে দেওয়া এমনই একটি প্রচলিত প্রথা, যা আসলে শিশুর ক্ষতির কারণ হতে পারে। অনেকে না জেনে শুধু শুনে শুনে এই কাজগুলো করেন, অথচ কী করলে শিশুর সঠিক যত্ন হবে – সেটা তারা জানেন না।
চুল ফেলে দিলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে?
শিশু ও নবজাতক বিশেষজ্ঞ ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, অনেক বাবা-মা শিশুর জন্মের ছয় দিনের মধ্যে বা তার কাছাকাছি সময়েই মাথার চুল পুরোপুরি ফেলে দেন। অথচ এই চুল শিশুর মাথাকে ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে। চুল ফেলে দিলে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে, যা হাইপোথার্মিয়ার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে এটা অনেক বেশি বিপজ্জনক।
আরেকটি বড় বিষয় হলো, নবজাতকের মাথার সামনের অংশে তখনও হাড় তৈরি হয়নি। এই জায়গাটিতে কেবল ত্বক থাকে আর তার নিচে থাকে ব্রেইন। সেখানে চাপ লাগলে সহজেই ইনজুরি হতে পারে। অনেক সময় রেজার বা ব্লেড ব্যবহার করে চুল ফেলা হয়, যেটা নবজাতকের জন্য একদমই নিরাপদ নয়। একটু অসতর্ক হলে মাথা কেটে যেতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি জানা দরকার তা হলো, জন্মের পর প্রথম দুই মাসে শিশুর ব্রেইনের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ডেভেলপমেন্ট হয়। এই সময় চুল ফেলার সময় শিশুর ভয় পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, অনেকেই কাঁদে বা অস্থির হয়ে পড়ে। এতে ব্রেইনের স্বাভাবিক বিকাশে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই দুই মাসের মধ্যে চুল ফেলা একেবারেই উচিত নয়।
যদি শিশুর চুল খুব বেশি লম্বা হয়ে যায় বা অস্বস্তিকর মনে হয়, তাহলে এক মাস পার হলে একটু ছোট করে দেওয়া যেতে পারে। তবে পুরো মাথা চেঁছে ফেলার প্রয়োজন নেই। দুই মাস পরে শিশুর শারীরিক ও স্নায়ুবিক অবস্থা একটু স্থিতিশীল হলে, তখন চুল কাটার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে — তাও খুব সতর্কতার সঙ্গে।
পরিবারের প্রথা বা আশেপাশের মানুষদের কথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিশুর স্বাস্থ্যের কথা ভাবা জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে শিশুর যত্ন নিলে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
ডা. এস. এম. মনিরুজ্জামান
সহযোগী অধ্যাপক
শিশু ও নবজাতক বিশেষ